উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাগড়া কবিরাজপাড়া ও পুটলপাড়া রাস্তা দিয়ে আশপাশের ১৫ গ্রামের শতশত মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। এ রাস্তায় মালিঝি নদী থেকে নেমে আসা একটি খাল পথচারীদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় দেশ স্বাধীনের পর থেকেই। এসব গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ লাগবে ২০০৭ সালে এলজিইডি এ খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে যায় সেতুটি।
ওই এলাকার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লাইলী বেগম, গ্রামের ইয়াদ আলী, নুর মোহাম্মদ, আব্দুল করিম, মো. আসাদুলসহ গ্রামবাসী জানান, সেতুটি নির্মাণের সময় ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সেটি বিধ্বস্ত হয়ে খালে পড়ে যায়। এতে এসব গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছরেও ওই স্থানে আর নতুন সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে উক্ত প্রস্তাব ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে আছে। এসব গ্রামের মানুষের যাতায়াতের স্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ওই বিধ্বস্ত সেতুর পাশ দিয়ে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেতুটির অবস্থাও নড়বড়ে। এখানে একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব গ্রামের শতশত মানুষকে। এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবাদি পশু পারাপারে কৃষকদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
হাতিবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ গ্রামবাসীরা বলেন, এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য বহুবার আবেদন করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী শুভ বসাক বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখতে বিধ্বস্ত সেতুর পাশে কাঠের নড়বড়ে সেতুটি সংস্কারের জন্য এডিপির অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব প্রেরণ করা আছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই সেতু নির্মাণ করা হবে।