গত ১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ জন শিশু নিহত বা আহত হচ্ছে। ফিলিপ লাজ্জারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “পুনরায় শুরু হওয়া যুদ্ধ তাদের শৈশব আবার কেড়ে নিচ্ছে। গাজাকে শিশুদের ‘জায়গা নয়’ হিসেবে পরিণত করছে এ যুদ্ধ।”
লাজ্জারিনি আরও বলেন, ‘এটি আমাদের সাধারণ মানবতার ওপর একটি কলঙ্ক। শিশুরা যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের হত্যাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।’ গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৪ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। নিহতদের মধ্যে ২৭৪ জন ছিল নবজাতক, এক বছরের কম বয়সী শিশু ছিল ৮৭৬ জন, বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ঠান্ডায় মারা যাওয়া শিশু ছিল ১৭ জন এবং অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছে ৫২ জন শিশু।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত রোববার আক্রমণ আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৫০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। গাজায় বর্বরতার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও চলছে।