লন্ডন-ভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ ভুল ঘোষণা করা নিয়ে অভিযোগ উঠলেও সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এটি নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। যদিও কিছু আরব দেশ রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। আবার কিছু দেশ সোমবার ঈদ পালন করেছে।
দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া এবং আরও কয়েকটি সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ সৌদি আরবের ঘোষণার সঙ্গে মিল না রেখে সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। শিয়া-সংখ্যাগিরিষ্ঠ ইরানের পাশাপাশি ওমানের ইবাদি ধর্মীয় কর্তৃপক্ষও সোমবার ঈদ পালন করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপনের বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, গত শনিবার চাঁদ দেখা অসম্ভব ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবি-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিদ্যা কেন্দ্র বলেছে, কোনও ধরনের পদ্ধতির ব্যবহার করে পূর্ব গোলার্ধ থেকে শনিবার চাঁদ দেখা সম্ভব ছিল না।
সৌদি জ্যোতির্বিজ্ঞানী বদর আল-ওমাইরা গালফ নিউজকেও বলেছিলেন, শনিবারের সূর্যগ্রহণের কারণে সেদিন চাঁদ দেখা অসম্ভব। সূর্যগ্রহণের পর কয়েক ঘণ্টা চাঁদ দেখা সম্ভব হয় না।
যুক্তরাজ্যের মুসলিমদের চাঁদ দেখা গোষ্ঠী নিউ ক্রিসেন্ট স্যোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ইমাদ আহমেদ গত সপ্তাহে নিউ আরবকে বলেছিলেন, ইসলামি মাসগুলো চাঁদের নতুন পর্যায় থেকে শুরু হওয়া নিয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। ইসলামি মাসগুলো চাঁদের নতুন পর্যায় থেকে শুরু হয় না। বরং তা অর্ধচন্দ্রের পর্যায় থেকে শুরু হয়।
ইসলামের পবিত্র দুই মসজিদের জিম্মাদার সৌদি আরবের চাঁদ দেখার বিষয়টিকে সাধারণত কিছু আরব দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ মেনে চলে। দেশটি পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার ঘোষণা দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকেই সেটি বিশ্বাস করেন। এর ফলে লাখ লাখ মুসলমান একদিন আগেই রোজা রাখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
২০১১ সালেও সৌদি চাঁদ দেখা কর্তৃপক্ষ শনি গ্রহকে চাঁদ ভেবে ভুল করেছিল বলে সেই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল। এমনকি ২০১৯ সালেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ দুবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।