২০২২ সালে গুজরাট টাইটান্স ও লখনউ সুপারজায়ান্টস যুক্ত হওয়ার পর আইপিএল ৭৪ ম্যাচের ফরম্যাটে উন্নীত হয়। তখন থেকেই ২০২৫ সালের জন্য ৮৪ ম্যাচে বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে টুর্নামেন্টের নির্ধারিত সময়ের চাপ এবং ব্রডকাস্টারদের অতিরিক্ত ডাবল হেডার নিয়ে আপত্তির কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও মাঝারি মেয়াদে টুর্নামেন্ট আরও বড় করার পরিকল্পনা এখনও টেবিলে রয়েছে।
ধুমাল বলেছেন, “নিশ্চয়ই এটা একটা বড় সুযোগ হতে পারে। আমরা আইসিসি ও বিসিসিআই’র মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা করছি। এখন যেভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে আমাদের আরও গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি ভাবতে হবে, যাতে খেলাটির স্টেকহোল্ডারদের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য সৃষ্টি করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আদর্শভাবে আমরা চাইব, ম্যাচ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৪ বা ৯৪-তে নিয়ে যেতে। যাতে প্রতিটি দল হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন হবে ৯৪টি ম্যাচ। তবে এখনকার এফটিপি এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোর ব্যস্ত সূচি মাথায় রেখে তা তাৎক্ষণিক সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে সময়ের সাথে সাথে যদি পরিবেশ অনুকূলে আসে, তখন এই বিকল্প বিবেচনা করব।”
ধুমাল বলেন, “টেস্ট সিরিজ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং আইপিএল- সব মিলিয়ে এত ক্রিকেট হচ্ছে যে, এখনই ৭৪ থেকে ৮৪ ম্যাচে যাওয়া যৌক্তিক হবে না। তবে সময়-সুযোগ বুঝে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।”
কারণ, সাধারণত আইপিএলের মাঝামাঝি সময়ে টিভি ও স্ট্রিমিং দর্শকসংখ্যা কিছুটা কমে আসে। ব্রডকাস্টাররা মনে করেন, দর্শকদের ক্লান্তিই এর বড় কারণ। ২০২৫ সালের আইপিএল ৯ সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে ১২টি ডাবল হেডার থাকবে। আর পূর্ণাঙ্গ হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাটে গেলে আরও দুই সপ্তাহ বাড়তি সময় লাগবে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে।
অবশ্য, ফ্র্যাঞ্চাইজি সংখ্যা বাড়ানোর কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা বিসিসিআই’র নেই। ধুমাল বলেন, “এখন ১০টি দলই যথেষ্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টুর্নামেন্টের মান এবং খেলার গুণগতমান ধরে রাখা। তাই এখনই নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত করার কোনো সুযোগ দেখছি না। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে তখন বিবেচনা করা হবে।”
ধুমাল আইপিএল ২০২৫ মৌসুমকে সফল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “এবারের আইপিএলে দারুণ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছিল এবং বেশ কিছু তরুণ ভারতীয় ক্রিকেটার উঠে এসেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এবারের আসরে যদি নতুন কোনো দল প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে সেটা আইপিএলের জন্য দারুণ ব্যাপার হবে। এখন পর্যন্ত দিল্লি ক্যাপিটালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু, পাঞ্জাব কিংস এবং লখনউ সুপারজায়ান্টস প্লে-অফের দৌড়ে আছে, যাদের মধ্যে কেউই এখনো শিরোপা জিততে পারেনি।
ধুমাল বলেন, “প্রতি বছর আইপিএল আরও বড় হচ্ছে। আমরা ভীষণ খুশি যে, ভক্তরা টুর্নামেন্টটাকে এত ভালোবাসছে। সম্প্রচার ও স্টেডিয়ামে দর্শকসংখ্যা অভূতপূর্ব। এবারের ১৮তম আসরকেও আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চাই। গত ১৭ বছরের মতো আগামীতেও আইপিএল এই ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ব্যক্তিগতভাবে চাই, এ বছর এমন একটি দল চ্যাম্পিয়ন হোক যারা আগে কখনো শিরোপা জেতেনি। দিল্লি, পাঞ্জাব, আরসিবি এদের কেউ যদি ফাইনালে গিয়ে ট্রফি জেতে, তাহলে আইপিএলের জন্য দারুণ এক গল্প তৈরি হবে।”